বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০১:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Logo রাস্তায় পড়ে থাকা অসুস্থ বৃদ্ধের চিকিৎসার সহ যাবতীয় দায়িত্ব নিলেন সনাতনী সেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশন Logo হাবড়া নান্দনিক নাট্যোৎসবের কেতন ওড়ালো Logo নড়াইলে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ও বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এসপি মেহেদী হাসান Logo নড়াইলে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি তরিকুল ইসলাম গ্রেফতার Logo বীরগঞ্জে কমেছে সবজি-পেঁয়াজের দাম, মাংসের দাম চড়া Logo বীরগঞ্জে জুয়া খেলার সরঞ্জাম সহ ইউপি সদস্যের দুই স্ত্রী’র কারাদন্ড Logo চট্টগ্রামে বিশ্ব নাট্য দিবস উদযাপন Logo পাহাড়ের নাট্য আন্দোলন ও একজন সোহেল রানা Logo বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালিত Logo নড়াইলের দিঘলিয়া বিটে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

“মায়ের মতন আপণ কেউ নাই” তপন কুমার নন্দী

সোনার বাংলা নিউজ / ১০০ বার পঠিত
আপডেট : বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০২২, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

 মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। যেন ক্লান্তিময় এক দিনের সূচনা। মনের উদ্বেগকে কোনভাবেই মন থেকে আলাদা করা যাচ্ছে না। স্পষ্টতই উপলব্ধি করছি এ মুহূর্তে মাকে হারানোর ব্যাথা আর শূণ্যতা ছাড়া আর কিছুই আমার ভাবনায় নেই। এক কথায় বলতে হয়-“মায়ের মতন আপণ কেউ নাই”। আজ আমার পরমারাধ্যা মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনটিতেই আমি মা’কে চিরতরে হারিয়ে ফেলেছি। সেই থেকে এ দিনটি একান্তই আমার হয়ে গেছে বিশেষ দিন হিসেবে। মা অকালে চলে যাওয়াতে ভেতরটা ভীষণ ফাঁকা ফাঁকা লাগে। সারাক্ষণই মনে হয় কী যেন নেই। আর রাতের ঘুমে মাথার বালিশই হয়ে উঠে একটি পুকুর। এমনি করে করে আর কত বছর কাটাবো এরকম মা হীন সেই প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খায় মনে প্রানে। অসীম এক স্তব্ধতা প্রতি মুহুর্তেই গ্রাস করে রাখে মন-প্রাণ। নি:সীম নিরবতাই যেন আনন্দ। কাঁদতে চাইনা তারপরও বারবার অশ্রু বিন্দু এসে চোখ দুটোকে ঝাঁপসা করে ফেলে। বিশেষ করে মহালয়ার পর থেকে নিজেকে স্থির রাখতে পারছিলাম না। কারণ শারদ উৎসবের নবমী পুজোর দিনে তুমি আামাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য পরপারে চলে গেলা। কাছের প্রিয় মানুষটি যখন সবাইকে ছেড়ে চিরতরে অনন্তলোকে যাত্রা করেন তখন জীবনের প্রাণ চাতুর্য সবসময় মানুষকে উচ্ছ্বল, প্রাণবন্ত রাখতে পারে না। সব আনন্দই উপভোগ করা সম্ভব হয় না। অজানা এক শূণ্যতা সারাক্ষণ আচ্ছন্ন করে রাখে নিজেকে। আমিও সেই পরিস্থিতির শিকার। আমার পরিবারের সবাই আসলে শোকে কাতর এখনো। মায়ের কথা মনে পড়লে ভেঙ্গে পড়ে হু-হু করে কান্না শুরু হয়। বিশেষ করে আমার দু-ছোট ভাই বিভাস ও বিদ্যুৎ, তাদের মূখের দিকে তাকালে আমি যেন বড়ই অভাগা। তারা জানতে চাই, ভাই আমাদের মা কি আর কোনদিন আসবেনা? তখন আমি জবাব দিতে গিয়ে দু-চোখ ভরা কান্নার পানি ছাড়া আর কিছুই দিতে পারিনা। পারিনা তাদের চোখের সাথে তাল মিলাতে। কোনরকম তাদের সামনে থেকে চলে যেতে হয়। এভাবে আমার মা হারা ভাইদের স্বান্তনা দিই। আসলে সন্তানদের জীবনে মায়ের আসন হৃদয়ের সবটা জুড়েই। কেউবা তা প্রকাশ করতে পারেন খুব সহজে। আবার কোন কোন সন্তান তার প্রতিটি হৃদয় স্পন্দনে গভীর ভাবে তা উপলব্ধি করেন, কিন্তু প্রকাশ ক্ষমতায় তেমন পারদর্শী নন। বিশাল এক ছায়ার নাম ‘মা’। সন্তানের জীবনে মায়ের কোন বিকল্প নেই। মায়া, মমতা, আদর, স্নেহের এক অফুরন্ত ভান্ডার। জাগতিক জীবনে এক নি:স্বার্থ ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল। যাদের বাবা-মা বেঁচে আছেন তারা নি:সন্দেহে সৌভাগ্যবান, পৃথিবীতে চিরসুখী মানুষ। আমরা সেই সৌভাগ্যবঞ্চিতদের দলে। আজ যখন মাকে কাছে পেতে চাই, সময় দিতে চাই, মায়ের কষ্টের কিছুটা অংশীদার হতে চাই, নিজের সমস্ত সামর্থ্য দিয়ে সেবা করতে চাই, সর্বোপরি মাকে সুখী করতে চাই কিন্তু তা আর হয় না। যেদিকে তাকাই সর্বত্রই কেবল কষ্টের হাতছানি। এই সুখের দিনে আমাদের মা নেই। আমার পরিবারে যখন যার যার অবস্থানে এখন সচল ঠিক সেই সুখের সময় মা আমাদের মাঝে নেই। সেই শুণ্যতা আমরা কোনভাবেই পূরন করতে পারছিনা। মায়ের স্মৃতি আর আমাদের মানুষ করার স্বপ্ন ভাসছে চোখে। কিন্তু সেই স্বপ্ন কিভাবে পূরণ করবো। মা, সব সময়ই তুমি আমাদের সাথেই থেকো, হয়তোবা ডাকতেও পারিনা, ছুঁতেও পারিনা; কিন্তু এ দিনটি এলেই আরও বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। আমাদের সব আনন্দ-বেদনার সঙ্গী ছিলে তুমি। জীবনের প্রতিটি বাঁকে মায়ের উপস্থিতি খুবই জরুরি। অথচ ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! তোমার স্মৃতি আর অস্তিত্বকে উপলব্ধি করেই আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। অথচ এক সময় নিজের ভালোলাগাকে তুচ্ছ করে পরম যত্নে তুলে রাখতে আমাদের জন্য। আজ ভগবানের কাছে চাওয়া, তোমাকে যেন শান্তিতে রাখে। আজকে নিজে যখন বাবা,তখন তোমার পরিশ্রম, উৎকণ্ঠা, দু:খ-কষ্ট, ভালোলাগা-মন্দলাগা কিছুটা হলেও উপলব্ধি করছি বৈকি। আসলে তুমি ছিলে জীবনে মহামূল্যবান সম্পদ।মা তুমি নেই বলে আজ কেউ খবর নেয়না। পুজোয় নতুন কাপড় নিয়েছি কিনা,ঠিকমত খেয়েছি কিনা, বাসায় গিয়েছি কিনা ??? মা, তুমি আমাদের মাঝে নেই ভাবতে বড় কষ্ট লাগে। প্রতিদানের মানসিকতা নিয়ে মায়েরা সন্তান বড় করেন না। তবুও বারবার মনে পড়ছে তোমাকে কি তোমার যোগ্য মর্যাদা দিতে পেরেছি? সে অপরাধবোধ আর অপারগতার জন্য ক্ষমা চাওয়া ছাড়া এ মুহুর্তে আর কিইবা করার আছে? পারলে ক্ষমা করো। মা,নানা প্রতিকূলতায় তুমি আমাদের আশার বাণী শোনায়েছো। তুমি বড্ড সরল মনের মানুষ ছিলে। আবেগের আকূলতায় তোমার মূখটি ভেসে ওঠে স্মৃতির মণিকোঠায়। কারণে-অকারণে কত না কষ্ট দিয়েছি তোমাকে। নি:স্ব-নি:সঙ্গ তোমাকে কখনোই শান্তি দিতে পেরেছি কিনা জানিনা, হয়তোবা জীবনভর শুধু উৎকণ্ঠা আর সীমাহীন দু:শ্চিন্তায় কেটেছে তোমার অনেকটা সময়। বলতে দ্বিধা নেই, তুমি ছিলে সৃজনশীল শৈল্পিক মনের একজন সরল-সাধারণ মানুষ। সেজন্য সন্তান হিসেবে আমি গর্বিত। তুমি ভাল থেকো মা।আমাদের আর্শীবাদ করো,আমরা যেন মানুষ হতে পারি। ইতি তোমারই আদরের তাপস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD