শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Logo হবিগঞ্জে দেশের সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা ও শিক্ষিকা রিবন রুপা দাশের রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন Logo বীরগঞ্জে মাদক বিক্রেতা স্বামী স্ত্রী সহ আটক ৩ Logo রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ এএসআই কুড়িগ্রাম সদর থানার শাহিন Logo নড়াইলের লোহাগড়ায় ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন ও প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্গন চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিনুল ইসলামের সমর্থকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা Logo ভুট্টার বাম্পার ফলনে লাভের স্বপ্ন দেখছেন,বীরগঞ্জের ভুট্টা চাষীরা Logo সমস্ত জাতিবেদ প্রথা বিলুপ্তিতে শ্রীচৈতন্যদের ভূমিকা অপরিসীম Logo চট্টগ্রামে মানবাধিকার কর্মী জুয়েল আইচ এর নামে বিভিন্ন ফেইক আইডি থানায় জিডি Logo লাঙ্গল বন্দ স্নান উৎসবে সনাতনী সেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের সেবা দানে প্রসংশায় পঞ্চমুখ তীর্থযাত্রীবৃন্দ Logo বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সনাতনী সেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের শরবত বিতরণ

প্রতিনিয়ত পাচার হচ্ছে নিষিদ্ধ ‘জাটকা’

সোনার বাংলা নিউজ / ৬০ বার পঠিত
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৩, ৭:০৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা থেকে রাতের আঁধারে প্রতিনিয়ত পাচার হচ্ছে জাটকা ইলিশ। একটি চিহ্নিত কোম্পানীর বেশির ভাগ ফিশিং জাহাজ সাগরে শুধু জাটকা নিধনে নিয়োজিত বলে জানা যায়। নিষিদ্ধ জাটকা ইলিশ নিয়ে চলছে তাঁদের কোটি কোটি টাকার ব্যবসা। মেতেছে জাটকা পাচারের মহোউৎসবে। আর এ উৎসবে সামিল রয়েছে খোদ জেলা ও উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা, নৌ পুলিশ ও বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অসাধু কর্মকর্তা।

যাদের কে ম্যানেজ করে অবাধ চালিয়ে যাচ্ছে এ ব্যবসা। যদিও সাগর কিংবা নদ-নদীতে ইলিশ সম্পদ রক্ষায় দেশজুড়ে চলছে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান। কিন্তু তবুও থামানো যাচ্ছে না জাটকা নিধন। দূর পাল্লার পরিবহন কিংবা ট্রাক যোগে দিনে ও রাতে কর্ণফুলী থেকেই পাচার হচ্ছে শত শত মণ জাটকা ইলিশ। কর্ণফুলীর এপার ওপার কোন না কোন ঘাটে সুযোগ বুঝে জাহাজ থেকে জাটকা নামানো হয়। পরে তা সড়কে পথে পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ সম্পদ নষ্ট করে জাটকা নিধন করে উপার্জনের পথ খুঁজে নিয়েছে। জানা যায়, অল্প দিনেই জাটকা বিক্রি করে এসব ব্যবসায়ির গাড়ি-বাড়ি আর সহায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো তাদের ধারে কাছে ঘেঁষতে পারেননি। কেননা এ ব্যবসার সাথে জড়িত প্রভাবশালী কিছু মৎস্য ব্যবসায়ি এবং স্থানীয় পর্যায়ের কিছু নেতা।

অভিযোগ চক্রটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাজার এবং জেলায় জাটকা পাঠাতে সড়ক ও নৌ পথে হাইওয়ে পুলিশ ও নৌ পুলিশকে ম্যানেজ করে নিষিদ্ধ জাটকার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাটকা পাচার রোধ এবং বিক্রি বন্ধে প্রশাসনেরও কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মৎস্য বিভাগের দাবি তাঁরা সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে অভিযান চালিয়ে জাটকা জব্দ করবেন।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাটকা রক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি ভাবে জেলেদের দেয়া হয় প্রনোদনাও। কিন্তু এসব কিছুর পরেও রক্ষা হচ্ছে না জাটকা ইলিশ। প্রায় প্রতিদিনই কর্ণফুলীর উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর এলাকার নদী সংলগ্ন বিভিন্ন ঘাটে জাটকা মাছ তোলা হচ্ছে। আর প্রকাশ্যেই তা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পাচার করা হচ্ছে।

জানা যায়, অতি লাভের আশায় নতুন কিছু ব্যবসায়ি এ কাজের সাথে জড়িত। এই সিন্ডিকেট চক্র নিষিদ্ধ সময়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে এসব জাটকা নিধনে ভূমিকা রাখছেন। কর্ণফুলী এলাকার জেলে বাহাদুর ও শামশু জানান, ‘একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র নদী থেকে ইলিশ শিকার করে সড়ক ও নৌ পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। মৎস্য আড়ৎদার এবং কতিপয় দুষ্টু ব্যক্তিরা দিনের পর দিন অবৈধভাবে জাটকার ব্যবসা করে আসছেন।’

একাধিক জেলেদের অভিযোগ, ‘যারা জাটকা ও ডিমওয়ালা ইলিশ পাচার চক্র পরিচালনা করছে তারা থেকে যাচ্ছে অন্তরালে। প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে মনে করি।’ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, ‘কর্ণফুলীতে জাটকা পাচারে আমাদের নিয়মিত অভিযান ও সচেনতার লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। ইলিশ সম্পদ রক্ষায় বাজারে জাটকা ইলিশ মাছ বিক্রি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলীকে একাধিকবার কল করা হলেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসের সিনিয়র সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘মুলত যারা প্রকৃত মৎস্য ব্যবসায়ী তারা জাটকা নিধনের সাথে জড়িত নয়। নতুন নতুন কিছু লোক জাটকা নিধনে জড়িয়ে পড়ছে। এরা কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মা ইলিশ শিকার করছে। কর্ণফুলীর কোন কোন ঘাটে জাটকা পাচার হচ্ছে আমরা বিষয়ে খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।’

সদরঘাট নৌ পুলিশের ওসি মোঃ একরামুল হক বলেন, ‘রাতে দিনে আমাদের নৌ পুলিশ টহলে থাকে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে অবশ্যই অভিযান চালিয়ে জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়। জাটকা পরিবহন বা নিধনের খবর আসলে যে করেই হোক সেটা প্রতিরোধ এবং প্রতিহত করার চেষ্টা করছি ।’

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বাংলাদেশ কোস্টগার্ড চট্টগ্রাম দক্ষিণ জোনের অপারেশন অফিসার লেঃ কর্ণেল আশফাক বিন ইদ্রিস এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও ফোন রিসিভ না হওয়ায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কর্ণফুলীর উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পিযুষ কুমার চৌধুরী বলেন, ‘জাটকা ইলিশ ধরা যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি কারেন্ট জাল ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ। ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। সুতরাং জাটকা ইলিশ বেচা বিক্রি আইনত অপরাধ। সঠিক তথ্য পেলে যেকোন সময় অভিযান করবে ভ্রাম্যমান আদালত।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের মৎস্য আইন অনুযায়ী আগে জাটকার আকার ছিল নয় ইঞ্চি। কিন্তু ২০১৪ সালে গেজেট সংশোধন করে ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের ইলিশকে জাটকা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD