শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
Logo ক্লাইন্ট ফারিয়াকে মামলায় সাহায্য করে ব্লাকমেইলের শিকার আইনজীবী মৃন্ময় কুন্ডু তপু Logo সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশন সর্বদা মানবতার কথা বলে Logo টিআইসিতে শিল্পী রিষু তালুকদারের একক নজরুলের গানে মুগ্ধ দর্শক-শ্রোতা Logo স্বাক্ষর জাল জালিয়াতির মামলায় গ্রেফতার বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বিশু Logo হবিগঞ্জে দেশের সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা ও শিক্ষিকা রিবন রুপা দাশের রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন Logo বীরগঞ্জে মাদক বিক্রেতা স্বামী স্ত্রী সহ আটক ৩ Logo রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ এএসআই কুড়িগ্রাম সদর থানার শাহিন Logo নড়াইলের লোহাগড়ায় ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন ও প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্গন চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিনুল ইসলামের সমর্থকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা Logo ভুট্টার বাম্পার ফলনে লাভের স্বপ্ন দেখছেন,বীরগঞ্জের ভুট্টা চাষীরা

বন্দর নগরীতে অনিয়ন্ত্রিত ও অনিবন্ধিত যান বাহন, চলাচলে ভোগান্তি

সোনার বাংলা নিউজ / ১২০ বার পঠিত
আপডেট : মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০২৪, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি

একদিকে দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী চিন্তা, মাঝে মধ্যে লোডশেডিং, অন্যদিকে নগরীর অলিগলিতে সকাল থেকে মধ্যরাত অব্দি ব্যাটারিচালিত রিক্সার দৌড়াত্ম্য।

নগরীর দিদার মার্কেট, কাজেম আলী রোড, ঘাটফরহাদবেগ, আন্দরকিল্লা জেমিসন মেটারনিটি, টেরিবাজার মোড়ে সব সময় ব্যাটারীচালিত রিকসার জট লেগেই থাকে। অলিগলিতে বেপরোয়া গতির চলাচলে ঘটে দূর্ঘটনাও।

চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র তীর্থ বলেন, ‘আমার মর্ণিং শিফ্টে স্কুল, সকালে ঘুম থেকে উঠেই ছুটতে হয়। মোটর রিক্সা গুলোর তো জটলা লেগে থাকে, তার উপর এমন গতিতে চলে, পাশ কাটিয়ে স্কুল বাস ধরাও কষ্টের হয়’।

‘মেইন রোডে উঠি না, ভিতরের রাস্তায় চালাই, জানি নিষেধ আছে, মালিক জমা বেশী নিলেও আয় ভাল হয়, দুরবস্থায় কোন রকমে চলতে পাড়ি’-বলছিলেন ব্যাটারিচালিত রিক্সা চালক জুলহাস মিয়া।

ব্যাটারিচালিত রিক্সার অলিখিত স্ট্যান্ডে কারো কারো সুবিধা হলেও আন্দরকিল্লা মোড়ের জেমিসন মেটারনিটিতে আসা রোগী ও স্বজনদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

এদিকে ফিরিঙ্গীবাজার হয়ে কর্ণফূলী সেতু পর্যন্ত মেরিনার্স সড়ক হওয়ায় পূর্বের চেয়ে অনেক বেশী ব্যস্ত ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলে ঝুকিঁপূর্ণ হয়ে উঠেছে কোতোয়ালীর মোড়, পাথরঘাটা, আলকরণ, সদরঘাট, আইস ফ্যাক্টরী রোড সহ আশপাশের এলাকা।

পাথরঘাটা এলাকার বাসিন্দা গার্মেন্টস কর্মী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘কোতোয়ালীর মোড় এলাকায় মোটামুটি সব রকমের যানবাহন চলে, যথাসময়ে অফিস যেতে সুবিধা হয়, কিন্তু এমন দ্রুতগতিতে চলে যেন রাস্তা পারাপারে ঝুকিঁ নিতে হয়, তাই এই মোড়ে একটা ফুটওভারব্রীজ হলে খুব ভাল হতো’।

আলকরণ হয়ে সদরঘাট এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি স্কুল, কলজে, হাসপাতাল, ডায়গনস্টিক সেন্টার, মন্দির, মসজিদ, ব্যাংক-বীমা অফিস, সাইকেল-সাইকেল পার্টস-বিভিন্ন রকমের বেয়ারিংয়ের পাইকারী বাজার সহ বেশ কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, নিউ মার্কেট এলাকায়ও রয়েছে অনেক দোকানপাট-প্রতিষ্ঠান।

বন্দর নিকটবর্তী হওয়ায় বন্দরের বিভিন্ন মালামাল নিয়ে এই সড়কগুলোতে ট্রেইলার, লরি, বড় বড় ট্রাক-কভার্ডভ্যান চলাচল করে বেপরোয়া গতিতে। সড়কের দুপাশের বিস্তৃত আবাসিক এলাকার লোকজনের জন্য যা চিন্তার বিষয়। সকাল থেকে রাত অব্দি থেমে থেমে জট লেগেই থাকে এই এলাকায়। অফিস-স্কুল-কলেজগামীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ দিলীপ চৌধুরী বলেন, ‘আমার বাসা ও চেম্বার এই এলাকায়, প্রায় যেভাবে অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল করতে দেখি, এতে জীবনের ঝুকিঁ যেমন রয়েছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুকিঁও। এই এলাকায় একটা গুরুত্বপূর্ণ মাতৃসদন হাসপাতাল রয়েছে, অথচ এলাকার শব্দ দূষণের মাত্রা অসহনীয়’।

‘দেখতে দেখতেই এলাকাটা কেমন ঘিঞ্জি হয়ে উঠেছে, ব্যবসা বাণিজ্য করাও অনেক দূরহ’-কথাগুলো সদরঘাট অমর চাঁদ রোডের সাইকেল পার্টস ব্যবসায়ী সোহেল আহমেদের।

কোতোয়ালী-ফিরিঙ্গীবাজার-সদরঘাট ও এর আশপাশের এলাকা নিয়েই পুরাতন চট্টগ্রাম শহরের গোড়াপত্তন। শোনা যায় এলাকার পি.কে.সেন সাত তলা ভবনের আলো দেখে এক সময় মানুষ নৌপথে চট্টগ্রাম শহর চিনতো। অথচ এখন সকাল থেকে রাত অব্দি অপরিকল্পিত-অনিয়ন্ত্রিত-বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে অত্র এলাকাগুলোর অবস্থা প্রকৃতই বিপর্যস্ত।

উত্তর নালাপাড়ার বাসিন্দা সঞ্জয় চৌধুরী বলেন, ‘সকালে মেয়ের স্কুলের জন্য বের হতেই অফিস যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই বের হই। নালাপাড়া থেকে বের হয়ে কোতোয়ালীর মোড় পেড়িয়ে পাথরঘাটা মেয়ের স্কুলে পৌঁছাতে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়, অথচ দূরত্ব কিন্তু বেশী না, এই রাস্তাগুলোর মনে হয় কোন মা-বাপ নাই’।

অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ জীবনযাত্রা, মোটরযানের পরিকল্পনাহীন সহজলভ্যতায় ক্রমেই শহরের আনাচে কানাচে পরিচ্ছন্ন জনজীবন ব্যহত।

‘সব সময় কম বেশী যানজট, বেপরোয়া গতির যান চলাচল তো আছেই, সবচেয়ে বেশী ভয় লাগে পাশ দিয়ে স্ক্র্যাপ লোহার কোন গাড়ি গেলে। কোন রকমের প্রটেকশন ছাড়া যেভাবে এগুলো খোলা ট্রাকে এদিক ওদিক নেওয়া হয়, যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় কোন দূর্ঘটনা। কলেজ জীবন থেকেই এই এলাকায়, পরিচ্ছন্ন এই এলাকাটি যেন বিগত ১৫/১৬ বছর ধরে বেপরো্য়া যান্ত্রিকতায় গাজীপুর চৌরাস্তাকেও হার মানায়’- বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিনয় ভূষণ নাথের কথা, তিনি আলকরণ এলাকার বাসিন্দা।

সড়কের ফুটপাত গুলোও সমযে সময়ে দখলমুক্ত হলেও, কিছুদিন পরেই পুরানো চিত্রে ফিরে যায়। এতে নগরবাসীর স্বস্তির চলাচল যেমন ব্যহত হয়, তেমনি অনিবন্ধিত, অবৈধ ও মেয়াদ উত্তীর্ণ যান চলাচলে সড়ক যোগাযোগ ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD